শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭

আমি তখনও বসে ছিলাম,এখনও াসসে আছি।

আমি তখনও বসে ছিলাম
আমি তখনও বসে ছিলাম।উর্মিলা চলে যাচ্ছিলো পরের ঘরে,লাল টুকটুকে একটা শাড়ি পরে।বিয়ের প্রিতে বসে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদেছিলো পরীর মতন মেয়েটা।হঠাৎ করে ওর বাবা বিয়ে ঠিক করে,সবার অজান্তে ফাল্গুনের জ্যোস্মা শোভিত রাত্রে।বরের অনেক ধন সম্পদ আছে,ভালো বাড়ি আছে দামি গাড়ি আছে।সবাই কল্পনা করে,সুখত এনাদের কাছেই আছে,উর্মিলার বাবা মেয়েকে সুখি রাখতেই বিয়েটা ঠিক করেছিলেন।খুব চাপা স্বভাবের মেয়ে,নিজের দুঃখ কষ্ট বুকে জমিয়ে রাখে,সুযোগ পেলে চোখ দিয়ে গলিয়ে বের করে দেয়।সব দুঃখ কষ্ট।

রাত হয়নী তখনও,গোধুলী লগ্ন আমি ছুটছি উর্মিলার উদ্যেশ্যে।প্রায় ৩২২ কিলোমিটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হবে উর্মিলার বাড়িতে।বন্ধুবরাত খবর পায় তাঁর বিয়ে সে বলে নাই আমাকে।তবুও ছুটছি তার উদ্যেশ্যে।অবশেষে স্ট্যশনে আসলাম টিকিট কাউন্টারে কেউ নেই,তবুও দাড়িয়ে রইলাম একটা টিকিটের জন্য।হঠাৎ মোবাইল ফোনটা বেঁজে উঠলো।রিসিব করলাম,কথা না বলতেই,
করুণ কন্ঠে ভেসে এল আর্তনাদ,কোথায় তুমি আজ আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে,তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাও।তোমাকে ছাড়া,,,,
কেটে গেলো লাইনটা।

একটু পর টিকিট কাউন্টারে একটা লোক আসলো,টিকিট কাটলাম,রেল স্টেশনের বেঞ্চ গুলোর একটাতে বসলাম।ট্রেন এক ঘন্টা পর আসবে।মন ছুটে চলছে,উর্মিলার কাছে,কিন্তু দেহটা যেতে পারছে না।এ যেন মহাকালের অপেক্ষা একটা ঘন্টা শেষ হয় না।অবশেষে এক ঘন্টা পার করলাম,কিন্তু ট্রেন এলো না,স্টেশনের মাইকে এনাউন্স করছে,আন্ত নগর এক্সপ্রেস সকালে আসবে।আনুমানিক তখন রাত সাতটা হবে।আমি হতাশ হয়ে বসে রইলাম,উত্তর বঙ্গের বাস স্ট্যান্ডে,তখন রাত নয়টা হবে।দক্ষীন বঙ্গের কোন বাস নেই এত রাতে।আবার স্টেশনে গেলাম।সেই বেঞ্চটাতে বসলাম।

কিছুক্ষন পর মাইকে আবার এনাউন্স করলো,আন্ত নগর এক্সপ্রেস দশ মিনিটের মধ্যে আসবে।খুশি দ্যাখে কে।ট্রেন আসলো উঠলাম ঙ নং বগীর মাঝের সিটটাতে।চারিদিকে আনন্দ আমি শুধু নিস্তব্ধ।
তখন দশুড়ায় ট্রেনটা সবে মাত্র দাড়িয়েছে,অমনি শুনতে পেলাম ট্রেনের ইঞ্জিনের কুলিং সিস্টেম কাজ করছে না,ট্রেন দুই ঘন্টা জিড়িয়ে তাঁরপর আবার যাত্রা শুরু করবে।আমি সিটে বসে আছি,পকেট থেকে উর্মিলার ফটোটা বের করলাম,কত সুন্দর পরী আমার,ভাবছি,হঠাৎ ফোনের রিংটন বেঁজে উঠলো,চন্দনের ফোন ছিলো,কাঁদো কাঁদো কন্ঠে,সব শেষ বন্ধু, উর্মিলার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।এখন আর কিছু করার নেই বন্ধু,ও বিয়ে করতে চায়নী ওর বাবা জোর করে,,,,,,,।

আমি তখনও বসে ছিলাম ট্রেনের ভিতর।উর্মিলার উদ্যেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম সেদিন।আজও বসে আছি অপেক্ষার স্টেশনে।যে স্টেশনে কোনদিন ট্রেন থামবে না।তবুও বসে আছি তাছাড়া শান্তনা কিসে।
আমি এখনও বসে আছি স্টেশনে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন