শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

গভির রাতে ঘুমিয়ে গেছে নগরী,শহর,প্রবাসি।এখনো ঘুমায়নী আমি।

             গভীর রাত
         শেখর অধিকারী
গভীর রাত ঘুমিয়ে গেছে নগরী,
ঘুমিয়ে গেছে,গাছপালা,শহর, প্রবাশী,
শহর,পাড়া-গাঁয়ের লোক, সকলে মিলে,
কত সুখে,দিচ্চে পাড়ি ঘুমের রাজ্যে।

শুধু নাই ঘুম দু-চোখে আমার,
চোখের পলক আটকাতেই,ঘুমতে গেলেই,
দুচোখ ভেসে বয়ে চোয়াল বেঁয়ে জ্বিবহায়
ঝাঝালো স্বাদের নোনা জল।

ঘুমতে পারিনা, একটুকও আমি,
শুধু জাগিয়ে রাত্রি দেয় পাড়ি,
এক রাত্রি পাহারাদার প্রহরীর মতন,
রাতের পর রাত জাগি দেই পাড়ি একাকি!

কোথাও কোন, সাড়া,শদ্ব নাই,
নাই কোন ভেপু,হর্ণ,আকরিক জড়িত ইঞ্জিনের কুৎসিত শদ্ব।
নাই কোন নব-বধুর সুমধুর কন্ঠ,
আরো নাই বাজারের ফদ্য তুলে দেওয়া নরম হাতের স্পর্শ।
ছুটছে পৃথিবী পূর্ব পশ্চিমে অবিরত,
পিছনে ফেলে সময় নামক নিকৃষ্ট আলেয়া।

শুধু মাঝে মাঝে
লক্ষি পেচার ডাক শোনা য়ায়,
করুণ কন্ঠে ডাহুক ডেকে যায়,
বাবুর বাগানে গভির নিশিতে।
কুক পাখিটা বোধহয় আজও সজিনা গেছের মগডালে বসে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয় তাঁর,
যে বছর দুই আগে চলে গেছে চির নিদ্রায় কবর দেশে,লাটিম,গুল্ম গাছ গুলোর নীচে।

সেই চৌদ্দ বছর আগে ফেলে আসা স্মৃতিরা
জগ ডুমুরের ডাল দিয়ে বাড়ি দিয়ে যায় মগজে,ঘিলুর চারপাশে,
বিতৃষ্ণা আরো বেড়ে যায়,
নিজের প্রতি,জীবনের প্রতি,
মানব জাতির অমানবতার প্রতি,
পরক্ষনে ভাবি,
আফিমের ভ্রমে বুঝি এমন হয়।

হঠাৎ কালো রাত্রি শেষে,
হলুদ সূর্যটা উঠলো হেসে,
চেতন ফিরলে অনুমানিতে পায়,
সব কিছু বৃথাই, মিছে আলেয়া।
ততক্ষনে,
কালের খেয়া,এসেছে তীরে,
আমারে নিতে একটু পরে যাব চলে,
রাত্রি শেষে হয়েছে সময়,হৃদে কড়া নেড়ে বলিছে দূত এসে!
সুন্দর,মায়াবী,মধুময়,হিংসাত্বক,রাজ্য ফেলে,
চলো,
এবার মায়া ছেড়ে চলো সব কিছু ভুলে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন